জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণ শিল্প: ঐতিহ্যবাহী সংকট থেকে আধুনিক ‘সি-ওয়াটার ফার্মিং’-এর দিকে যাত্রা

জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণ শিল্প: ঐতিহ্যবাহী সংকট থেকে আধুনিক ‘সি-ওয়াটার ফার্মিং’-এর দিকে যাত্রা
জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং আবহাওয়ার চরমভাবাপন্ন আচরণ উপকূলীয় কৃষি ও অর্থনীতির জন্য যেমন হুমকি, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে এটি অদ্ভুত সুযোগও তৈরি করছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, লবণ উৎপাদন খাতটি বর্তমানে একটি বিশেষ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে তীব্র তাপদাহকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে ঐতিহ্যবাহী লবণ উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ু সহনশীলতা অর্জনে ‘সি-ওয়াটার ফার্মিং’ বা লোনা পানির কৃষির মতো অভিনব প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিচ্ছে।
এই আর্টিকেলে আমরা প্রদত্ত সোর্সগুলোর আলোকে ঐতিহ্যবাহী লবণ উৎপাদনের বর্তমান অবস্থা, এর অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যতের টেকসই সমাধান হিসেবে আধুনিক লোনা পানির কৃষি ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী লবণ উৎপাদন ও আবহাওয়ার প্রভাব

বাংলাদেশে লবণ উৎপাদন মূলত একটি আবহাওয়া-নির্ভর শিল্প। সোর্স বা সূত্রগুলোর তথ্যানুসারে, বর্তমানে দেশে যে তীব্র তাপদাহ বা হিটওয়েভ চলছে, তা জনজীবনের জন্য কষ্টদায়ক হলেও লবণ চাষিদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে।

তীব্র গরমে লবণের বাম্পার ফলন

লবণ উৎপাদনের জন্য প্রখর রোদ এবং উচ্চ তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে যে আবহাওয়া বিরাজ করছে, তা লবণ চাষের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। কক্সবাজার জেলার ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প কর্পোরেশনের উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাফর ইকবাল ভুইয়ার মতে, “এ বছর আমরা যে আবহাওয়া দেখছি, তা সচরাচর পাওয়া যায় না। এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও লবণ চাষের জন্য খুবই পজিটিভ।” তিনি উল্লেখ করেন, আবহাওয়া যদি আরও এক সপ্তাহ বা ১০ দিন অপরিবর্তিত থাকে, তবে গত ৬৩ বছরের রেকর্ড ভেঙে এ বছর লবণের নতুন উৎপাদন রেকর্ড সৃষ্টি হবে ।
চাষিরা এই পরিস্থিতিকে তুলনা করছেন “হাতে আকাশের চাঁদ পাওয়ার” সঙ্গে। সাগরের নোনা জল শুকিয়ে তারা এখন মহাসমারোহে লবণ উৎপাদন করছেন। মেঘ বা বৃষ্টির অনুপস্থিতি তাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে, কারণ বৃষ্টিহীন মাঠেই পুরোদমে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে।

উৎপাদন প্রক্রিয়া: মাঠ থেকে গুদাম পর্যন্ত

ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে লবণ উৎপাদনের প্রক্রিয়াটি বেশ পরিশ্রমসাধ্য এবং কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। নিউজ২৪-এর প্রতিবেদন অনুসারে প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:
  1. জমি প্রস্তুতকরণ: প্রথমে নির্ধারিত জমিতে রুলার দিয়ে মাটি সমান করে নেওয়া হয়। চাষিদের ভাষায়, “গরমের মধ্যে পিটিয়ে মাটি খুস করে সমান করে দেওয়া হয়”।
  2. পলিথিন বিছানো: মাটি সমান করার পর জমিগুলোকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করা হয় এবং সেখানে পলিথিন বিছানো হয়। পলিথিন ব্যবহারের ফলে লবণের বিশুদ্ধতা বজায় থাকে এবং মাটি থেকে লবণ আলাদা করা সহজ হয়।
  3. লোনা পানির সেচ ও বাষ্পীভবন: পলিথিন বিছানো মাঠে সাগরের লোনা পানি সেচ দিয়ে প্রবেশ করানো হয়। এরপর শুরু হয় প্রকৃতির খেলা। তীব্র রোদে পানি বাষ্পীভূত হতে থাকে। সাধারণত তিন থেকে চার দিনের মধ্যে পানি শুকিয়ে লবণের স্ফটিক ফুটে ওঠে।
  4. সংগ্রহ ও পরিবহন: লবণ ফুটে ওঠার পর চাষিরা হাড়পাট দিয়ে তা ওলট-পালট করে রোদে শুকান। এরপর ঝুড়িতে করে সেই লবণ সংগ্রহ করা হয়। মাঠ থেকে লবণ পরিবহনের জন্য ঝুড়ি, নৌকা এবং ট্রাক ব্যবহার করা হয়। কখনো কখনো নৌকাপথে, আবার কখনো ট্রাক থেকে খুঁচিয়ে নামিয়ে লবণ গুদামে নেওয়া হয়।

অর্থনৈতিক প্যারাডক্স: বাম্পার ফলন, তবুও লোকসান

জলবায়ুর প্রভাবে উৎপাদন বাড়লেও, অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা বা ‘ইকোনমিক রেজিলিয়েন্স’-এর অভাব এই খাতের একটি বড় দুর্বলতা। বর্তমানে লবণের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ লাখ ২৮ হাজার মেট্রিক টন, যা চাহিদার সমান। কিন্তু অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে লবণের দামে ধস নেমেছে।
  • দামের পতন: মৌসুমের শুরুতে লবণের দাম ছিল মণপ্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। কিন্তু উৎপাদন বাড়ার সাথে সাথে তা কমে বর্তমানে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় নেমে এসেছে। ব্যবসায়ীদের মতে, “লবণের দামের ধসে আমরা হতাশ। পুঁজি যা ছিল সব দিয়ে দিয়েছি, এখন শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার জন্যও লবণ বিক্রি করা যাচ্ছে না” ।
  • উচ্চ উৎপাদন খরচ: লবণের দাম কমলেও উৎপাদন খরচ কমেনি, বরং বেড়েছে। একজন সিনিয়র শ্রমিকের মজুরি সিজন প্রতি ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। জুনিয়র শ্রমিকদের দিতে হয় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। এর সাথে পলিথিন কেনা, সেচ মেশিনের খরচ এবং অন্যান্য আনুষাঙ্গিক ব্যয় যুক্ত আছে। ফলে, ৩০০ টাকা দরে লবণ বিক্রি করে চাষিদের পক্ষে খরচ মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

চাষিদের দাবি, উৎপাদনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি ন্যায্য দাম নির্ধারণ করা প্রয়োজন। অন্যথায়, বাম্পার ফলন সত্ত্বেও তারা ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে পড়বেন এবং পেশা বদলাতে বাধ্য হবেন [৬]।

 

জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক হুমকি ও নতুন চিন্তাধারা

বাংলাদেশের লবণ চাষিরা যখন বৃষ্টির অভাবে খুশি, তখন বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বলছে ভিন্ন কথা। জলবায়ু পরিবর্তন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে উপকূলীয় কৃষির জন্য অস্তিত্বের সংকট তৈরি করছে।

লবণাক্ততার বৈশ্বিক সংকট

‘সি-ওয়াটার সলিউশনস’-এর প্রতিষ্ঠাতা ইয়ানিক নাইবার্গের মতে, শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় বন্যার ঝুঁকির মুখে রয়েছে। লবণাক্ততা খাদ্য উৎপাদনের জন্য একটি বড় বাধা হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতি বছর লাখ লাখ কৃষক তাদের জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন কারণ তাদের জমিতে মিঠা পানির ফসলের পরিবর্তে নোনা পানি ঢুকে পড়ছে [১]।
প্রথাগত কৃষিতে লবণাক্ততাকে একটি ‘সমস্যা’ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন করতে হলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। লবণাক্ততাকে সমস্যার বদলে ‘সম্পদ’ হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমেই প্রকৃত রেজিলিয়েন্স বা সহনশীলতা আসতে পারে।

আধুনিক সমাধান – ‘সি-ওয়াটার ফার্মিং’ বা লোনা পানির কৃষি

জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য এবং লবণ উৎপাদনকে একটি টেকসই ইকোসিস্টেমের অংশ করার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে ‘সি-ওয়াটার ফার্মিং’ বা লোনা পানির কৃষি ব্যবস্থার প্রচলন শুরু হয়েছে। এটি ঐতিহ্যবাহী লবণ উৎপাদনের চেয়ে অনেক বেশি ব্যাপক এবং পরিবেশবান্ধব।

সি-ওয়াটার ফার্মিং কী?

এটি এমন একটি পদ্ধতি যেখানে উপকূলীয় জলাভূমি, যেমন—ম্যানগ্রোভ বন, সি-গ্রাস (সামুদ্রিক ঘাস) এবং সল্ট মার্শ (লবণাক্ত নিচু জমি) ব্যবহার করে খাদ্য ও পণ্য উৎপাদন করা হয়। ইয়ানিক নাইবার্গের মতে, এই পদ্ধতিতে “লোনা পানি দিয়ে খাদ্য ফলানো” সম্ভব ।

পরিবেশগত সুবিধা

এই পদ্ধতিটি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে:
  • কার্বন শোষণ: এই ধরনের উপকূলীয় জলাভূমি ট্রপিক্যাল রেইনফরেস্ট বা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনাঞ্চলের চেয়ে ৩০ গুণ বেশি কার্বন শোষণ করতে পারে। একে ‘ব্লু কার্বন’ বলা হয় ।
  • জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধি: সি-ওয়াটার ফার্মিং প্রজেক্টগুলোতে দেখা গেছে, মাত্র দুই বছরের মধ্যে জীববৈচিত্র্য ১০০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে ।
  • উপকূল রক্ষা: ম্যানগ্রোভ এবং জলাভূমি উপকূলীয় বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস প্রতিরোধে প্রাকৃতিক বাঁধ হিসেবে কাজ করে।

অর্থনৈতিক ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি

ঐতিহ্যবাহী লবণ চাষে (যেমনটি বাংলাদেশে দেখা যায়) শুধুমাত্র লবণ পাওয়া যায়, কিন্তু সি-ওয়াটার ফার্মিং একটি বহুমুখী উৎপাদন ব্যবস্থা:
  • উচ্চ ফলন: এই পদ্ধতিতে ধান বা গমের চেয়ে ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি উৎপাদনশীলতা বা ‘ইল্ড’ (Yield) পাওয়া সম্ভব। এখানে লবণ-সহনশীল শস্য (Saline crops) এবং মাছ চাষ (Aquaculture) একত্রে করা হয় 
  • কার্বন ক্রেডিট ও অর্থায়ন: এই মডেলের অন্যতম শক্তিশালী দিক হলো এর আর্থিক কাঠামো। চাষিদের আয়ের জন্য শুধুমাত্র ফসলের ওপর নির্ভর করতে হয় না। যেহেতু এই খামারগুলো প্রচুর পরিমাণে কার্বন শোষণ করে, তাই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ‘কার্বন ক্রেডিট’ বা কার্বন অর্থায়ন পাওয়া যায়। এই অর্থ দিয়ে চাষিদের জীবিকা এবং কমিউনিটি উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনা করা হয়। এটি এমন একটি মডেল যা দাতা সংস্থার ওপর নির্ভর না করে এক বছরের কম সময়ে বাণিজ্যিকভাবে সফল হতে পারে।

ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন – ভবিষ্যতের রূপরেখা

আমাদের প্রদত্ত সোর্সগুলোর আলোকে দেখা যাচ্ছে যে, লবণ উৎপাদন ও উপকূলীয় অর্থনীতির দুটি ভিন্ন চিত্র রয়েছে।
  • প্রথম চিত্র (বাংলাদেশ): এখানে চাষিরা প্রকৃতির খামখেয়ালিপনার ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে তারা লাভবান হচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু বৃষ্টির সামান্য উপস্থিতি তাদের পুরো পরিশ্রম নষ্ট করে দিতে পারে। এছাড়া, লবণের বাজারের অস্থিরতা তাদের অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিচ্ছে ।
  • দ্বিতীয় চিত্র (বৈশ্বিক উদ্ভাবন): এখানে সি-ওয়াটার ফার্মিংয়ের মাধ্যমে লবণাক্ততাকে কাজে লাগিয়ে একটি সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। এটি আবহাওয়ার চরম আচরণের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে বরং সেই পরিবর্তনকে কাজে লাগায়। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ এবং ডব্লিউএফপি (WFP)-এর মতো সংস্থার সহায়তায় এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী আয়ের উৎস তৈরি করছে ।

জলবায়ু সহনশীলতার চাবিকাঠি

ঐতিহ্যবাহী লবণ উৎপাদনকে জলবায়ু সহনশীল করতে হলে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা জরুরি:
  1. বাজার ব্যবস্থাপনা ও ন্যায্য মূল্য: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, শুধুমাত্র উৎপাদন বৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়। সোর্স ৬-এ উল্লেখিত চাষিদের হাহাকার বন্ধ করতে হলে লবণের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। আধুনিক মডেলে যেমন কার্বন ফাইন্যান্সের মাধ্যমে আয়ের বৈচিত্র্য আনা হয়েছে, তেমনি বাংলাদেশের লবণ চাষিদের জন্যও বীমা বা ভর্তুকির ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
  2. ইকোসিস্টেম-ভিত্তিক অভিযোজন: শুধুমাত্র পলিথিন বিছিয়ে লবণ উৎপাদন না করে, উপকূলীয় জমিতে ম্যানগ্রোভ এবং মাছ চাষের সমন্বয়ে ‘ইন্টিগ্রেটেড ফার্মিং’ বা সমন্বিত চাষাবাদ শুরু করা যেতে পারে। এটি চাষিদের লবণের দাম কমে গেলে বিকল্প আয়ের উৎস দেবে এবং পরিবেশ রক্ষা করবে।
  3. প্রযুক্তির ব্যবহার: আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং আধুনিক সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে লবণ উৎপাদনকে আরও বিজ্ঞানসম্মত করা প্রয়োজন।
লবণ আমাদের খাদ্যের অপরিহার্য উপাদান, আর উপকূলীয় মানুষের জন্য এটি জীবন-জীবিকার প্রধান উৎস। সোর্সগুলোর বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট যে, প্রকৃতি যখন বিরূপ আচরণ করে, তখন মানুষ টিকে থাকার নতুন পথ খুঁজে নেয়। বাংলাদেশে বর্তমানে তীব্র তাপপ্রবাহকে কাজে লাগিয়ে লবণ চাষিরা যে রেকর্ড গড়ছেন, তা তাদের অদম্য পরিশ্রমের প্রমাণ। তবে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষার জন্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের আসল ধাক্কা সামলাতে হলে আমাদের ‘সি-ওয়াটার সলিউশন’-এর মতো আধুনিক, বিজ্ঞানসম্মত এবং প্রকৃতি-বান্ধব পদ্ধতির দিকে ঝুঁকতে হবে।
লবণাক্ততা বা তীব্র রোদ—কোনোটাই সমস্যা নয়, যদি আমরা সেগুলোকে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পদে রূপান্তর করতে পারি। এভাবেই গড়ে উঠবে আগামীর জলবায়ু সহনশীল লবণ শিল্প।

 

This post is authored by Khan Mohammad Mahmud Hasan, a Education and Career expert with 20+ years in curriculum design, teacher training, and career coaching. Contact him via WhatsApp at +8801714087897 or explore other methods on the contact page

Join my WhatsApp Group for more updates