বাংলাদেশের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট: কর্মসংস্থান ও আয় উপার্জনের দক্ষতা অর্জনে কার্যক্রমের কার্যকারিতা

বাংলাদেশের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট: কর্মসংস্থান ও আয় উপার্জনের দক্ষতা অর্জনে কার্যক্রমের কার্যকারিতা
 

ভূমিকা

বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই চাহিদা পূরণে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন কারিগরি ও প্রযুক্তিগত বিষয়ে ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম অফার করে যা শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে।

কর্মসংস্থান ও আয় উপার্জনের দক্ষতা

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, পলিটেকনিক স্নাতকদের মতে, ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম শিল্পের মৌলিক কারিগরি দক্ষতার চাহিদা পূরণ করে। স্নাতকরা প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান ও দক্ষতাকে তাদের কর্মজীবনের জন্য প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন।

কর্মসংস্থানের পারফরম্যান্স

তবে, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে পলিটেকনিক স্নাতকদের পারফরম্যান্স প্রত্যাশার অনেক নিচে। জরিপে দেখা গেছে যে, মাত্র প্রায় তিন-পঞ্চমাংশ (৩৫%) পলিটেকনিক স্নাতক পুরো সময়ের বা পার্ট-টাইম চাকরি পেয়েছে। বাকি এক-তৃতীয়াংশ (৩৩%) স্নাতক বেকার রয়েছে এবং অবশিষ্ট (৩২%) উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হয়েছে। বেকারত্বের হার পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মধ্যে অনেক বেশি (৪০%)। গ্রামীণ স্নাতকদের কর্মসংস্থানের হারও শহুরে স্নাতকদের তুলনায় অনেক কম।

লিঙ্গ ও অবস্থানের ভিত্তিতে পার্থক্য

কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে লিঙ্গ ও অবস্থানের ভিত্তিতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়। মহিলা স্নাতকদের পুরুষ স্নাতকদের তুলনায় বেকারত্বের হার অনেক বেশি। গ্রামীণ স্নাতকদের শহুরে স্নাতকদের তুলনায় কর্মসংস্থানের সুযোগও কম।

পলিটেকনিক শিক্ষার উন্নয়ন

গবেষণায় পলিটেকনিক শিক্ষার মান উন্নয়ন ও স্নাতকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে:

  • শিক্ষা-কর্মসংস্থানের বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম নিয়মিত পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা।
  • শিক্ষকদের কারিগরি ও শিক্ষণ দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি করা।
  • আধুনিক সরঞ্জাম ও সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের মান উন্নত করা।
  • শিল্পের সাথে অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করে শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ ও চাকরির সুযোগ বৃদ্ধি করা।
  • স্নাতকদের জন্য চাকরি স্থাপন সহায়তা পরিষেবা সম্প্রসারণ ও উন্নত করা।
  • নারী ও গ্রামীণ স্নাতকদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি চালু করা।

উপসংহার

পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলো বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে দক্ষ কর্মী সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে পলিটেকনিক স্নাতকদের পারফরম্যান্স প্রত্যাশার অনেক নিচে। গবেষণায় সুপারিশকৃত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে পলিটেকনিক শিক্ষার মান উন্নত ও স্নাতকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা সম্ভব।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *